এই আর্টিকেলে, আমি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করবো। যেমন, ওয়ার্ডপ্রেস কী, এটি কী কাজে ব্যবহৃত হয়, এর কিছু সুবিধা ও লাভ, এবং একজন ব্লগার হিসেবে কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা উচিত।
ওয়ার্ডপ্রেস কী?
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং এর জনপ্রিয়তা বোঝা যায় এই তথ্য থেকেই যে, বিশ্বের প্রায় ৪৫% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি। Netcraft-এর একটি সার্ভে অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৫ মিলিয়নের বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস CMS সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস একটি ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা দিয়ে খুব সহজেই ওয়েবসাইট এবং ব্লগ তৈরি করা যায়।
কী কাজে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার হয়?
ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, যেমন:
- ব্লগ: ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহার শুরু হয়েছিল ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এবং এখনো এটি ব্লগ তৈরির জন্য একটি আদর্শ পছন্দ।
- বিজনেস ওয়েবসাইট: ছোট বা বড় ব্যবসার জন্য পেশাদারী ওয়েবসাইট তৈরি করা খুবই সহজ।
- ই-কমার্স সাইট: WooCommerce প্লাগইনের মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
- পোর্টফোলিও সাইট: নিজের কাজের নমুনা দেখানোর জন্য পোর্টফোলিও সাইট তৈরি করা যায়।
- ফোরাম: বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা যায়।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: BuddyPress এর মতো প্লাগইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরি করা সম্ভব।
ওয়ার্ডপ্রেসের শক্তিশালী থিম এবং প্লাগইন সাপোর্টের কারণে এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ, এবং এটি SEO, নিরাপত্তা, এবং কাস্টমাইজেশনের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা প্রদান করে।
ওয়ার্ডপ্রেসের গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা:
যদি আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার, ব্লগার বা নিজের একটি পারফেক্ট ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা ভাবছেন, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সহজ ভাষায় বললে, “ওয়ার্ডপ্রেস” হলো এমন একটি সহজ এবং জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহার করে আপনি নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।
এটি একটি ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা আপনি নিজের ওয়েব সার্ভারে ফ্রিতেই ইনস্টল করে, যেকোনো ধরণের ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস একটি শক্তিশালী এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য ফ্রি অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার প্ল্যাটফর্ম, যা PHP দিয়ে লেখা হয়েছে।
ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানানোর জন্য আপনার একটি ওয়েব হোস্টিং অ্যাকাউন্ট বা হোস্টিং সার্ভার থাকা দরকার। এরপর আপনি নিজের সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস CMS ইনস্টল করে যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। যদিও আরও অনেক ধরণের অনলাইন CMS সফটওয়্যার রয়েছে, যেমন Joomla, Drupal, Typo3, তবে ওয়ার্ডপ্রেসের জনপ্রিয়তা সেগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা ও লাভ:
ওয়ার্ডপ্রেস অনলাইনে ওয়েবসাইট এবং ব্লগ তৈরি করার সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার হওয়ার প্রধান কারণ হলো, এটি ব্যবহার করার প্রচুর সুবিধা রয়েছে। প্রথমেই, এটি একটি অ্যাডভান্সড সফটওয়্যার যা আপনি ফ্রিতে পেতে পারেন। অনলাইন সফটওয়্যার হওয়ার কারণে, আপনি যেকোনো স্থান থেকে নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কাজ করতে পারবেন। আপনার কেবল একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে।
ওয়ার্ডপ্রেস সম্পূর্ণভাবে SEO ফ্রেন্ডলি, যা আপনার ওয়েবসাইটকে সহজেই গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহার করে আপনি সহজেই বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন, যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, কোম্পানির ওয়েবসাইট, ফোরাম ইত্যাদি।
ওয়ার্ডপ্রেসের হাজার হাজার ফ্রি থিম এবং প্লাগইন রয়েছে, যা ব্যবহার করে আপনি নিজের ওয়েবসাইটের ডিজাইন, ক্ষমতা, এবং ফাংশন বাড়িয়ে নিতে পারেন। আপনি সহজেই থিম পরিবর্তন করে নিজের ব্লগের ডিজাইন পরিবর্তন করতে পারবেন। এছাড়া, ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে সম্পর্কিত অসংখ্য টিউটোরিয়াল এবং আর্টিকেল অনলাইনে পাওয়া যায়, যা দেখে আপনি সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস শিখে নিতে পারবেন।
ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন কী?
ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন হলো একটি ছোট সফটওয়্যার যা আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ইনস্টল করে, ওয়েবসাইটের কার্যক্ষমতা এবং ফাংশন বাড়িয়ে নিতে পারেন। এটি কিছুটা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মতোই, যেখানে আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করে মোবাইল ফোনে নতুন ফাংশন যোগ করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটেও বিভিন্ন ফ্রি বা পেইড প্লাগইন ইনস্টল করে অসংখ্য ফাংশন যোগ করা যায়।
ওয়ার্ডপ্রেস থিম কী?
সহজভাবে বলতে গেলে, ওয়ার্ডপ্রেস থিম হল একগুচ্ছ ফাইলের সমন্বয় যা একত্রে কাজ করে একটি গ্রাফিকাল ডিজাইন তৈরি করে। সাধারণত এটিকেই ওয়ার্ডপ্রেস থিম বলা হয়। একটি WordPress থিমের উপর সাইটটির রং, সাইডবার, মেনু সহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়। এই থিমগুলি একটি ওয়েবসাইটে কিভাবে প্রদর্শিত হবে তা নির্দেশ করে। WordPress-এর থিম ডিরেক্টরিতে আপনি সব ফ্রি থিম পাবেন। এছাড়াও Themeforest, StudioPress এর মতো বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে প্রিমিয়াম থিমও পাওয়া যায়, যা কিনে ব্যবহার করতে হয়।
ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কী কী করা যায়?
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগ, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, সদস্যপদ ভিত্তিক ওয়েবসাইট এবং পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট সহ যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে, আপনার একটি ডোমেন নাম, ওয়েব হোস্টিং, ওয়ার্ডপ্রেস সফ্টওয়্যার, একটি থিম এবং প্লাগইনের প্রয়োজন হবে।
ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে কতদিন লাগে?
প্রথমে হয়তো মনে হবে ওয়ার্ডপ্রেস কঠিন, তবে কিছুদিন নিজের WordPress ড্যাশবোর্ডে কাজ করলেই এর ব্যবহার সহজ হয়ে যাবে। ইন্টারনেটে WordPress সম্পর্কিত বিভিন্ন টিউটোরিয়াল এবং আর্টিকেল দেখে আপনি খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস শিখে নিতে পারবেন। পুরোপুরি শিখতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে, তবে এরপরে আপনি একজন দক্ষ ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী হয়ে উঠবেন।
শেষ কথা:
ওয়ার্ডপ্রেস একটি শক্তিশালী এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য CMS সফটওয়্যার যা দিয়ে যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করা যায়। এর ব্যবহারকারী বান্ধব ইন্টারফেস, ফ্রি থিম এবং প্লাগইন, SEO ফ্রেন্ডলি স্ট্রাকচার, এবং বিভিন্ন ধরণের ফাংশনালিটির কারণে এটি একটি আদর্শ পছন্দ। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করার লাভ এবং সুবিধাগুলি একবার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন।